সাজেক ভ্রমণ

0
52

২৫ শে আগস্ট ১৩জনের টিম নিয়ে সাজেক ভ্রমণে যাই।

কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে ওয়েদার আপডেট দেখার অভ্যাস। আপডেটে বৃষ্টির দেখা পেলেও খাগড়াছড়ি পর্যন্ত গরমে কিছুটা ভুগতে হয়। 
চট্টগ্রামে থাকি বিধায় বিকালের স্কটে যাওয়া ছাড়া উপায় নাই। তাই সকাল ৭ টার শান্তি পরিবহনে রওনা দেই খাগড়াছড়ির উদ্দ্যেশ্যে। টিকেট ১দিন আগে কেটে রাখি। যাতে সকাল সকাল গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে না হয়। টিকেট ১৯০ করে।

৩ ঘন্টার মধ্যে পৌছে যাই খাগড়াছড়ি শহরে।
হালকা নাস্তা পানি করে খাগড়াছড়ির ‘রিসাং ঝর্ণা, তারপর ‘তারেং’, সবশেষে ‘আলুটিলা গুহা’ ( টিকেট ২০ টাকা) দেখে দুপুরের খাবার খেয়ে প্রস্তুত হয়ে নিই বিকালের স্কট ধরার জন্য।
বিকালের স্কর্ট হচ্ছে ৩.৩০ টায়। 
এখানে উল্লেখ্য, স্কর্ট মানে হচ্ছে ‘অভিভাবক হয়ে কাউকে কোথাও নিয়ে যাওয়া’। এখানে সেনাবাহিনী আপনার অভিভাবক হয়ে আপনাকে সাজেক পৌছে দিবে। 
মানে অনেকটা কিন্ডারগার্টেন অবস্থা! 
এখানে স্কর্ট আছে দুই সময়ে একটা হচ্ছে সকাল ১০ টায়, আরেকটা বিকাল ৩.৩০টায়।
স্কর্ট ধরতে হয় বাঘাইছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে যেটি খাগড়াছড়ি শহর থেকে ১ ঘন্টার দুরত্বে।

ঢাকা বা অন্যান্য জেলা থেকে যারা আসবেন তারা ওইভাবে সময় নিয়ে আসবেন যাতে সকালের স্কর্টে চলে যেতে পারেন। কারণ সকালের পাহাড়ি পরিবেশ সত্যিই খুব সুন্দর।

সাজেক-খাগড়াছড়ি ঘুরি মাহিন্দ্রাতে ( সাদা জীপের মতো যেটা )। ড্রাইভার সাথে অবশ্য আগের দিনই কথা বলে রাখি। এখানে চাদের গাড়ি/ মাহিন্দ্রার রেট ফিক্সড। 
চাদের গাড়িতে ৮ জন নিবে, ভাড়া ৮১০০. মাহিন্দ্রায় ১২ জন নিবে, ভাড়া ৯৭০০। লোক বাড়লে ভাড়াও সেই অনুপাতে বাড়বে।
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পৌছতে সময় লাগে ২.৩০ মিনিট।

দুপুর পর্যন্ত কড়া রোদ থাকলেও ‘মাছালং আর্মি ক্যাম্প’ এ থাকাকালীন অবস্থায় বৃষ্টি আসে। যার ফলে অসাধারণ কিছু ভিউ পাই যাওয়ার পথে। আবহাওয়াও অনেক ঠান্ডা হয়ে আসে। সাজেকে পৌছে প্রচুর মেঘ পাই।
রিসোর্ট ভাড়া নিয়েছিলাম মেঘ মাচাং এ। সাজেকে ভালোই ভিউ পাওয়া যায় এ রিসোর্ট থেকে।
এখানে অফ ডে তে ব্যাম্বু কটেজ ৪০০০/-, ওয়ার্কিং ডে তে ৩৫০০/-,আর উডেন কটেজ অন ডে তে ৪৫০০, ওয়ার্কিং ডে তে ৪০০০/-৷ এক রুমে ৪ জন করে থাকতে পারে।

আমাদের সাজেক পৌছতে ৫.৩০ টার মতো বেজে যায়। ওই সময়টায় সাজেকের পাহাড়ে মেঘের আনাগোনা। 
সন্ধ্যার দিকে চলে যাই হেলিপ্যাডের দিকে। সাজেকের মেইন রোড ধরেই মিনিট ১৫ হাঁটলেই হেলিপ্যাড। 
তখন সেখানে হুহু বাতাস। রাতে প্রচুর তাঁরা ছিলো আকাশে। উল্কাপতনও চোখে পড়ে।

রাতের খাবার খেতে চাইলে ১২০-২০০ এর মধ্যেই পেয়ে যাবেন হোঁটেল গুলোতে। চাইলে রিসোর্টের ম্যানেজারের সাথে কথা বলে রাখলেও তিনিও ব্যবস্থা করে দিবেন। খরচ মোটামুটি ওই একই পড়বে। 
যখন যেখানে যাবেন চেষ্টা করবেন ওইখানকার স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে।
এখানে আসলে বাঁশকোড়ল খেতে ভুলবেন না। বাঁশকোড়ল হচ্ছে কচি বাঁশের তরকারি।

সাজেকে আসলে যে জিনিসটা আপনি মিস করতে পারবেন না সেটি হলো সাজেকের সকালবেলা। সকালে সাজেক অপার্থিব সৌন্দর্য্যের অধিকারী হয়ে উঠে। 
আর তার উপর বৃষ্টি পড়ায় রিসোর্টের সামনে ছিলো মেঘের নদী।

তারপর নাস্তা পানি করে চলে যাই কংলাক পাহাড়ে। যেটিকে সাজেকের সর্বোচ্চ হিসেবে ধরা হয়। 
এখানে যেতে হলে সাজেকে মেইন যেই রোডটা সেটা ধরেই যেতে হয়। ড্রাইভারই গাড়িতে করে অনেকটা পথ নিয়ে যাবে আপনাকে। বাকিটা হাঁটা পথ। ২০-২৫ মিনিট হাঁটা লাগে। কংলাক পাড়া পাড়ার ওপরেই কংলাক পাহাড়। অনেক সুন্দর ভিউ পাবেন চূড়া থেকে।

সবকিছু দেখা হলে খেয়েদেয়ে বিকালের স্কর্টে খাগড়াছড়ি এসে ঝুলন্ত ব্রীজ ( টিকেট ২০ টাকা ) ঘুরে চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশ্য সাতটার বাসে রওনা হই। শান্তি পরিবহনের বাস সাড়ে আটটা পর্যন্ত চলে। আর লোকাল ৬.৩০ টা পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here