English Subject Review In Bangla

0
14

কি পড়ানো হয় এখানে? এখান থেকে বের হয়েই বা কি হবো আমরা? এই প্রশ্ন গুলো খুব স্বাভাবিক। ওয়েল, বেসিক ল্যাঙ্গুইজ নিয়ে প্রথম বর্ষে কোর্স থাকবে, কিন্তু ভাষা নিয়ে কাটাকুটি ওই পর্যন্তই। এরপর থেকে শুরু হবে পিওর লিটারেচার নিয়ে ঘাটাঘাটি। এখানে একটা ফ্রি অ্যাডভাইজ দিয়ে রাখি, সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এখানে তুমি সত্যিই ভালো করতে পারবে; আর ভালোবাসা এখনো তৈরি না হয়ে থাকলে এখন থেকেই টুকটাক বইটই পড়া শুরু করে দিতে পারো। গল্পটল্প পড়তে নিশ্চই বোরিং লাগার কথা না!

প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়েও পড়ানো হবে তোমাদের। এই যেমন বেসিক কম্পিউটার, হালকাপাতলা ম্যাথ- এইসব আরকি। তবে আবারো বলছি, এরপর শুধুই লিটারেচার আর লিটারেচার! 


হ্যাঁ, শুধু সাহিত্য কপচে তাহলে করবোটা কি? সাহিত্য মানুষের জীবনের দর্পণ স্বরূপ; সাহিত্য মানুষকে খেলার ছলে শিক্ষা দেয়- এইসব গুরুগম্ভীর কথায় না গিয়ে এটুকুই বলবো- একজন ভালো মানুষ হতে শিখবে। জীবনবোধকে স্পর্শ করতে পারবে। নাহ, এগুলাও বোরিং কথাবার্তাই!  জানা দরকার, আসলেই ইংলিশ পড়ে কি করতে পারবো?

ইংলিশ থেকে অনার্স কিংবা মাস্টার্স করার পর তোমার সামনে খোলা থাকবে অনেক গুলো রাস্তা:
১) শিক্ষকতা
২) বিসিএস
৩) ব্যাংকিং
৪) বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ
৫) কল সেন্টার
৬) DU-IBA, GRE, SAT, GMAT, IELTS-এর মতো পরীক্ষা গুলোয় ইংলিশের উপর ভালো দক্ষতা আবশ্যক। পড়ার ছলে ওদিকটাও ঝালিয়ে নেওয়া হবে। আর এভাবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য থাকছে অসাধারণ একটা সুযোগ!
.
..আর যেকোনো জবের সার্কুলার দেখলেই দেখা যায়, ইংলিশের উপর গুড কমান্ড রিকয়্যার করছে। তাই এটা একটা ভালো পয়েন্ট।

আধুনিক যুগে প্রযুক্তি যত বেশি অগ্রসর হচ্ছে মানুষ তত বেশি রোবটিক হয়ে যাচ্ছে। এ সময়টায় আমরা সংস্কৃতি, মানসিক বিকাশ, মানুষে মানুষে বন্ধন, নৈতিকতা, মানসিক প্রশান্তি, এ বিষয়গুলো শিক্ষার মধ্যে খুব একটা খুঁজে পাই না; আমরা বরং প্রতিনিয়ত শিক্ষাকে প্রাগমেটিক ভেল্যুর সোপান বানাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে তোমাকে অন্য রকম এক অনুভূতি দিতে পারে সাহিত্য সংক্রান্ত যে কোন বিষয়; সেটা হতে পারে, বাংলা, আরবি, অথবা ইংরেজি সাহিত্য। বলা হয়ে থাকে “সাহিত্য হল জীবনের প্রতিচ্ছবি”। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে ইংরেজির চাহিদা তথা ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ হওয়ায় এখানে এক ডিলে দুই পাখি মারার একটা ব্যাপার চলে আসে। তুমি যেমন জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবে, তেমনি জব মার্কেটেও আছে তোমার জন্য বিপুল সম্ভাবনা।
যা পড়ানো হয়: যারা মনে করে বসে আছো ইংরেজি মানে গ্রামার, আর শব্দ শেখা তাদের জন্য এই ডিপার্টমেন্ট না। কিন্তু যারা চাও হাজার বছর আগের মানুষের সাথে একটু হেটে আসবো, সুপার ন্যাচারাল জগতে হারিয়ে যাবো, ভৌতিক ভয়ানকতায় কম্পিত হবো, মানুষের মনের মধ্যে বিচরণ করবো, বিপ্লব শিখবো, নারী-পুরুষের আদিম প্রেমের গল্প শুনবো, চাঁদনী রাতে দু’লাউন কবিতা বলে প্রেমিকার খোপায় একটা ফুল গেঁথে দিব, এই রোবটিক যুগেও মানুষে মানুষে ভালাবাসায় হারাবো তাদেরকে মোস্ট ওয়েলকাম।


এখানে প্রথম সেমিস্টারেই তোমাকে দেয়া হবে লিটারেচারের বেসিক ধারনা, জানানো হবে বাংলাদেশের ইতিহাস, আর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি থাকবে না তা কী হয়? তাই আছে কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস, গণিতও। যতই অগ্রসর হবে শিখতে থাকবে পোয়েট্রি, ইংল্যান্ডের ইতিহাস, ফিলসোফি, নোভেল, ট্র্যাজেডি, কমেডি, ক্লাসিক সাহিত্য, ক্রিটিসিজম ইত্যাদি। মাঝে মাঝেই সাহস করে বসবে বিশ্ব বিখ্যাত সাহিত্যিকদের কর্মগুলোর সমালোচনা লিখতে, সিনেমা-নাটক থেকে শুরু করে সব ধরনের সাংস্কৃিতিক কর্মযজ্ঞে তোমার পয়েন্ট অব ভিউ হবে সবার থেকে ভিন্ন।
কর্মক্ষেত্র:
তোমার বিষয়ের মত করেই, তোমার কর্মক্ষেত্রও ব্যাপক বিস্তৃত। প্রথমেই আসি বর্তমান বাংলাদেশের ক্রেজ বিসিএস নিয়ে। তোমাদের জন্য আছে শিক্ষা ক্যাডার, যেখানে যে কোন বিষয়ের চেয়ে ইংরেজি শিক্ষকই বেশি নেয়। সাথে জেনারেল ক্যাডারতো আছেই, আর তুমি ইংরেজিতে এগিয়ে আছো মানে তোমাকে ঠেকায় কে! আছে ব্যাংক, মাল্টিন্যাশনাল কম্পানি, ইংরেজি দৈনিক সহ বাংলাদেশে যত রকম জব আছে তার ৯০শতাংশতেই ইংরেজির গ্রাজুয়েটরা অংশগ্রহন করতে পারে। সর্বোপরি ইংরেজি বিভাগের কেউ কখনো বেকার থাকে না। সুতরাং যোগ্যতা থাকলে আর চিন্তা না করে চলে আসো আমাদের পরিবারে।
অসুবিধাসমূহ:
১/ সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা না থাকলে না আসাই উত্তম, লাইফ হেল হয়ে যাবে।
২/ভাল রেজাল্ট সেতো সোনার হরিণ, তোমারই রুমমেট যখন ৩.৮০ সেলিব্রেট করবে, তোমার তখন ২.৮০ তেই সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে।
৩/ কল্পনা শক্তি প্রবল না থাকলে, জীবন সংকটে পড়তে পারে।
৪/ খেয়ে যেতে পারো সেশন জট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here