Physics (পদার্থবিজ্ঞান ) Subject Review In Bangla

0
9

বিষয়বস্তুঃ

পদার্থবিজ্ঞান বিজ্ঞানের একটি প্রধান শাখা। পদার্থবিজ্ঞান প্রাকৃতিক বিশ্বের বিজ্ঞান। মহাবিশ্বের সব মৌলিক উপাদান, তাদের মধ্যে বিদ্যমান বলসমূহ এবং এর ফলে উদ্ভূত ঘটনাবলিকে বিশ্লেষণ করাই পদার্থবিজ্ঞানের প্রতিপাদ্য বিষয়। সহজ বাংলায় বলতে গেলে, পদার্থবিজ্ঞান হল সেই বিজ্ঞান যার লক্ষ্য আমাদের চারপাশের বিশ্বকে বোঝার চেষ্টা করা।

চাহিদা ও ভবিষ্যতঃ

পদার্থবিজ্ঞান হচ্ছে মাদার অফ অল সায়েন্স।ফিজিক্সে পড়ে যেমন উচ্চশিক্ষার জন্য আরো অনেক সাবজেক্ট যেমন ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ন্যানোটেকনোলজি, টেলিকম্যুনিকেশন, অ্যাস্ট্রোনোমি, এনভায়রোমেন্টাল সায়েন্স, মেডিক্যাল ফিজিক্স, নিউক্লিয়ার ইন্জিনিয়ারিং, জিওফিজিক্স, রিনিউয়েবল এনার্জিতে জাম্প করতে পারো, তেমনি যোগ দেয়া যায় বিভিন্নরকম পেশায়। শিক্ষকতাকে যেমন পেশা হিসেবে নিতে পারো তেমনি কাজ করতে পারো গবেষক হিসেবেও, যদি গবেষণার নেশা থাকে। যোগ দিতে পারো সিভিল এভিয়েশনে, কিংবা সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে পরমাণু শক্তি কমিশনে। মেডিক্যাল ফিজিক্সেও গড়তে পারো ক্যারিয়ার। রূপপুর পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রজেক্ট যদি বাস্তবায়িত হয় তবে সেখানেও খুলে যাবে ক্যারিয়ারের দরজা। আর যদি পদার্থবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক নেই এরকম কোনো পেশায় যোগ দিতে চাও, তাহলেও চিন্তা নেই। বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে সরকারী চাকরিতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারো, ব্যাংকে চাকরি করতে পারো, ব্যবসাতে যোগ দিতে পারো, মোবাইল কোম্পানিতে জয়েন করতে পারো এক কথায় বহু সুযোগ আছে তোমার ক্যারিয়ার গড়ে তোলার

কোথায় পড়ানো হয়ঃ

বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে অধ্যানের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কিছু কলেজেও এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। বেসরকারি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়েও এ বিষয় পড়ার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া দেশের বাইরে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সানটা, ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা, ক্যালটেক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শীর্ষে রয়েছে। যেখানে পদার্থবিদ্যা পড়ার সুযোগ রয়েছে।

যা পড়ানো হয়ঃ

পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে সাধারনত পদার্থেরে মৌলিক গুনাবলী, পদার্থের গঠন, শক্তি এবং পদার্থের উপর শক্তির ক্রিয়া ইত্যাদি নিয়ে কাজ করা হয়ে থাকে। পদার্থ বিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়বস্তর ব্যাপ্তি ব্যাপক। যেমন একাধারে বিশ্ব সৃস্টির বিষয় নিয়ে এর আলোচনা, আবার পদার্থের অতি ক্ষুদ্র কনিকাসমূহ যেমন অনু, পরমানু এবং তাদের গঠন সম্পর্কিত বিষয়সমূহ পদার্থ বিজ্ঞানের আওতাভুক্ত। পদার্থ বিজ্ঞানকে King of the subjects বলে থাকেন কেউ কেউ। এই bacic subject থেকে পরবর্তিকালে অনেকগুলো শাখা প্রশাখার উৎপত্তি হয়েছে। Applied, Physics, Electronics, Molecular, Solid, State, Physics, Reactor Physics, Atmospheric Physics, Material science, Plasma Physics, GeoPhysics, Atomic Physics ইত্যাদি ’ এই বিষয়ের শাখা প্রশাখা।

উচ্চ শিক্ষাঃ

আইইএলটিএস করে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসসহ অনেক দেশে যেতে পারেন। আর টোফেল করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যাওয়া যাবে।

সম্ভাব্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

যুক্তরাষ্ট্রের বেলভিউ, হার্বাট, শিকাগো, স্টানফোর্ড, পেনসিলভানিয়া ফ্লোরিডা, টেক্সাস ও স্টেট ইউনিভার্সিটিসহ ম্যাসাচুসেটস ও ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ব্রিটেনের ল্যান্ড সিটি, ম্যানচেস্টার, ডারহাম, কেন্ট, ক্যাম্ব্রিজ, অক্সফোর্ড, বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডার মাউন্ট রয়্যাল, অ্যালবার্টা, লেথব্রিজ, কাপিলানো, ভিক্টোরিয়া, ভ্যানকুভার, মাউন্ট এলিসন থমসন রিভার্স ইউনিভার্সিটি; নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, লিংকন, ওটাগো, ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়; জার্মানির হাইডলবার্গ, রসটগ, মিউনিখ, মার্টিন লুথার বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছরের মাস্টার্স ও এক বছরের পিএইচডি করা যাবে।

চাকুরীর ক্ষেত্রসমূহঃ

প্রথমতঃ চাকরি পাওয়ার জন্য আমাদের দরকার প্রথম শ্রেণির ফলাফল।এস,এ,সি,,
,এইচ,এস,সি,,সম্মান,,স্নাতোকোত্তর যাদের চারটিই প্রথম শ্রেণির তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য দুটি ক্ষেত্র হচ্ছে,,
১. বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন(BAEC)-বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।
২. বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(BAERA)-বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে “বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা(পদার্থ বিজ্ঞান) পদে প্রায় প্রতিবছর নিয়োগ হয়।

দ্বিতীয়তঃ যাদের তিনটি প্রথম শ্রেণির রেজাল্ট তারা নিন্মোক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোত
ে আবেদন করতে পারে;

  • বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ(BCSIR)-বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
  • মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন সংস্থা(SPARSO)-বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
  • বাংলাদেশ পাট গবেষনা ইন্সটিউট(BJRI)-বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
  • বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষনা ইন্সটিউট(BINA)-বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
  • বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ(CAAB)-এরোড্রাম অফিসার
  • বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ(DIWTA)-সহকারী কার্টোগ্রাফার

এছাড়া নিন্মোক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা আছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলঃ

  • ১. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD)
  • ২. বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB)
  • ৩. বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC)
  • ৪. বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এন্ড এক্সপ্লোরেশন কোঃ লিঃ (BAPEX)
  • ৫. ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ (DESA)
  • ৬. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (BERC)
  • ৭. বাংলাদেশ তৈল,গ্যাস ও খনিজ কর্পোরেশন (PETROBANGLA)
  • ৮. বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইন্সটিউট (BSTI)
  • ৯. ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরন কোঃ লিঃ (DESCO)

তৃতীয়তঃ যারা শিক্ষকতাকে মহান পেশা মনে করে তাদের জন্য রয়েছর 138 টি বিশ্ববিদ্যালয় (বেসরকারি-82 টি,সরকারি-36 টি),3150 টি কলেজ (বেসরকারি-2892 টি,সরকারি-251 টি),18500 টি উচ্চ বিদ্যালয় (বেসরকারি-18183 টি,সরকারি-317 টি) এবং 2728 টি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বেসরকারি-2548 টি,সরকারি-180 টি)।[তথ্য আগে কালেক্ট করা।কিছুটা হেরফের হতে পারে]

এসব প্রতিষ্ঠানে পদার্থবিদদের জন্য রয়েছে বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা।পদার্থবিজ্ঞান ই যাদের ধ্যান-জ্ঞান,পদার্থবিজ্ঞানই যাদের ভালবাসা তারা সহজেই এসব ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবে।

চতুর্থতঃ উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যতীত আরো প্রায় 330 টিরও বেশি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিশ্চয় কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে পদার্থবিদ দরকার।

পঞ্চমত : সমাজ বিজ্ঞান,ব্যবসা ও কলা অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের মত বিভিন্ন ব্যাংকেও আমরা চাকরি করতে পারি বরং গনিতে তুলনামূলক ভাল হওয়ার কারনে আমাদের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে

ষষ্ঠতঃ দেশের বাইরের কথা চিন্তা করলেও পদার্থবিজ্ঞান অনেক এগিয়ে।বহির্বিশ্বে পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।উন্নতবিশ্বে গবেষনা,বৃত্তি,চাকরির জন্য একটু চেষ্টা করলেই রয়েছে সফল হওয়ার হাতছানি।

তাই আমার বিশ্বাস পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করে চাকরি নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই বরং পদার্থবিদ্যা বিষয়ক চাকরির ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত বলে অন্যান্যদের তুলনায় বিষয়টি অনেক এগিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here